Friday, 15 November 2019

   06:42:40 AM

logo
আর এমপি পুলিশ অভিযান কলেজছাত্র মোঃ ফিরোজ সরকার(২৫)-এর হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় জড়িত ট্রাক সনাক্ত অন্তে আটক এবং জব্দকৃত বাস চালক গ্রেফতার

4 months ago

২৮/০৬/২০১৯ খ্রিঃ ভিকটিম মোঃ ফিরোজ সরকার(২৫), পিতা-মোঃ মাহফুজার রহমান, সাং-নামুইট, থানা-নন্দীগ্রাম, জেলা-বগুড়া, নন্দীগ্রাম বাস স্ট্যান্ড হতে রাজশাহী আসার উদ্দেশ্যে একটি বাসে উঠেন। তাড়াহুরা করে বাসে উঠার কারণে তিনি উক্ত বাসের নাম ও রেজিষ্ট্রেশন নম্বর জানতেন না। ঐ দিন ১৮.০০ ঘটিকা হতে ১৮.৩০ ঘটিকার মধ্যে কাটাখালী থানাধীন কাটাখালী পৌরসভা কার্যালয়ের পশ্চিমে ইমাদপুর নামক স্থানে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে নাটোর অভিমুখে বেপরোয়াভাবে দ্রæত গতিতে আসা একটি যানবাহন (বাস অথবা ট্রাক)-এর সহিত ভিকটিম মোঃ ফিরোজ সরকারকে বহনকারী বাসটির মুখোমুখি বেপরোয়াভাবে ক্রোসিং করার সময় দুটি যানবাহনের চাপা লেগে ভিকটিম মোঃ ফিরোজ সরকারের ডান হাতের তিন-চতুর্থাংশ কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাস্তার উপর পড়ে যায়। ভিকটিম মোঃ ফিরোজ সরকার(২৫) রাজশাহী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। তার ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। বাসের চালক বাসটি ঘটনাস্থলে না থামিয়ে অনুমান ০৫ কিলো মিটার দূরে মতিহার থানাধীন তালাইমারী মোড়ে বাস থামিয়ে ভিকটিম ফিরোজকে বাস হতে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। অজ্ঞাতনামা অপর যানবাহন(বাস অথবা ট্রাক)টি নাটোর অভিমুখে চলে যায়। বাসে থাকা অন্যান্য যাত্রীরা ভিকটিমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী-এর ৩১নং ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। মারাত্বক আহত অবস্থায় ভিকটিম এর অস্ত্রোপচার করে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়। কাটাখালী থানা পুলিশ স্থানীয় জনসাধারণের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ভিকটিম মোঃ ফিরোজ সরকারের ডান হাতের কাটা অংশ পেয়ে তৎক্ষনাৎ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহীতে নিয়ে আসেন। ভিকটিম মোঃ ফিরোজ সরকারের চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, ভিকটিমের হাতের কর্তিত অংশ জোড়া লাগানো সম্ভব না। এমতাবস্থায়, ভিকটিমের হাতের কর্তিত অংশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিমঘরে রাখা হয়। ভিকটিম, ভিকটিমের সাথে থাকা অন্যান্য যাত্রী, ঘটনাস্থলের সাক্ষী, কেহই দূর্ঘটনায় পতিত দুটি যানবাহনের নাম, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর দিতে পারেন নি। ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ভিকটিম ফিরোজ, তাকে আরোহণকারী বাসটির বর্ণনা দিতে গিয়ে বাসের সামনের উইন্ড সেডের গøাস ভাঙ্গা এবং বাসটির নামের আদ্যাক্ষর  শুধুমাত্র “গঙ” লেখা ছিল বলে জানাতে পারেন। ঘটনাস্থলে ভিকটিম মোঃ ফিরোজ সরকার-এর হাতের কর্তিত অংশ ব্যতিত আর কোন দূর্ঘটনা সংক্রান্ত আলামত ছিল না। কেউই দূর্ঘটনায় নিপতিত যানবাহনের বর্ণনা দিতে পারেন নি। 

উপরোক্ত ঘটনায় ভিকটিম মোঃ ফিরোজ সরকার-এর পিতা জনাব মোঃ মাহফুজার রহমান-এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরএমপি-এর কাটাখালী থানার মামলা নং-২০, তারিখ-২৯/০৬/২০১৯ খ্রিঃ, ধারা-২৭৯/৩৩৮/৩৩৮-ক পেনাল কোড রুজু করা হয়। ঘটনার পর হতেই কাটাখালী থানা পুলিশ কর্তৃক তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত থাকে।

শুধুমাত্র উপরোক্ত দুটি তথ্যকে ভিত্তি করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আরএমপি-এর কাটাখালী থানা পুলিশ ২৯/০৬/২০১৯ খ্রিঃ মাত্র ২৪(চব্বিশ) ঘন্টার মধ্যে দূর্ঘটনায় জড়িত বাস-“মোহাম্মদ পরিবহন”, যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর-ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০৪৬২, রাজশাহী শিরোইল বাস স্ট্যান্ড হতে সনাক্ত করে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারপূর্বক জব্দ করেন। জব্দকৃত বাসে দূর্ঘটনায় পতিত হওয়ার চিহ্ন বিদ্যমান। ভিকটিম মোঃ ফিরোজ সরকার বাসটির ছবি দেখে সনাক্ত করেছেন। বাসের চালক মোঃ ফারুক হোসেন সরকার(৩৯), পিতা-মোঃ আতাহার আলী সরকার, সাং-গোপালহাটি, থানা-পুঠিয়া, জেলা-রাজশাহী পলাতক থাকেন। কাটাখালী থানা পুলিশ বাসের মালিক মোঃ আবুল বাশার @ সেরেকুল(৪০), পিতা-মৃত ময়েন উদ্দিন, সাং-মাসকাটাদিঘী পশ্চিমপাড়া, থানা-কাটাখালী, মহানগর রাজশাহী-এর বাসা হতে ঘটনার তারিখ ২৮/০৬/২০১৯ খ্রিঃ রাজশাহী বাস স্ট্যান্ড হতে বগুড়া অভিমুখে ছেড়ে যাওয়া “ওয়েবিল”(ছাড়পত্র) উদ্ধারপূর্বক জব্দ করেছে। দূর্ঘটনায় বাসটি জড়িত মর্মে সকল ধরনের সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। 

আরএমপি-এর কাটাখালী থানা পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বোয়ালিয়া থানাধীন উপরভদ্রা এলাকার বক্কার অটোমোবাইল ওয়ার্কসপ হতে দূর্ঘটনায় জড়িত একটি ঊওঈঐঊজ, ঋঅজওঝঞঅ ট্রাক, যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর-ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৮৭৯৬, হেলপার মোঃ রায়হান সরদার(২১), পিতা-মোঃ মাসুদ রানা, সাং-পাসুন্দিয়া, থানা-চারঘাট, জেলা-রাজশাহী-এর হেফাজত হতে জব্দপূর্বক ০৩/০৭/২০১৯ খ্রিঃ ২৩.০৫ ঘটিকায় হেফাজতে গ্রহণ করেন। জব্দকৃত ট্রাকেও দূর্ঘটনায় পতিত হওয়ার চিহ্ন বিদ্যমান। দূর্ঘটনায় পতিত হওয়ার পর বর্ণিত ট্রাকটির মালিক মোঃ আবু মহসিন আলী(৬৫), পিতা-মৃত মুসা আহম্মদ, সাং-লক্ষীপুর, থানা-রাজপাড়া, মহানগর রাজশাহী ও হেলপার মোঃ রায়হান জানান যে, জব্দকৃত ট্রাকটি উপরোক্ত ঘটনার তারিখ ও সময়ে আদা বোঝাই করে রাজশাহী হতে ঢাকায় যাওয়ার পথে বর্ণিত বাসের সহিত দূর্ঘটনায় পতিত হয়েছিল। দূর্ঘটনায় পতিত হলে ঢাকায় না গিয়ে বেলপুকুর মোড় হতে মাহেন্দ্রা বাইপাস হয়ে শাহমখ্দুম থানাধীন ছন্দা পেট্রোল পাম্প-এ অবস্থান করে। পরের দিন ঢাকায় উক্ত আদা পৌঁছে দিয়ে পুনরায় ছন্দা পেট্রোল পাম্পে ট্রাকটির পার্ক করে ড্রাইভার পলাতক হয়। ০৩/০৭/২০১৯ খ্রিঃ হেলপার মোঃ রায়হান ট্রাকটি মেরামত করার জন্য বক্কার অটোমোবাইল ওয়ার্কসপে নিয়ে আসেন। ট্রাকের মালিক মোঃ আবু মহসিন আলী জানান, ঘটনার তারিখ ও সময়ে মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান(২৪), পিতা-আব্দুল কাদের, মাতা-আকলেমা বেগম, সাং-পাটিয়াকান্দি, থানা-চারঘাট, জেলা-রাজশাহী বর্ণিত ট্রাকটির চালক ছিল। ঘটনার সময় উপরে বর্ণিত হেলপার রায়হান ট্রাকে দায়িত্ব পালনরত ছিলেন না। প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ ও তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে  সংগৃহীত তথ্যেও উক্ত হেলপার রায়হান-এর বিরুদ্ধে ঘটনার দিন ও তারিখে বর্ণিত ট্রাকে হেলপার হিসাবে নিয়োজিত থাকার স্ব-পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় নি। ঘটনার তারিখ ও সময়ে দায়িত্বে থাকা উক্ত ট্রাকের হেলপারকেও সনাক্ত করা গেছে। ট্রাকের মালিক ট্রাক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র সহ প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেছেন। ঘটনার পর হতে ট্রাকের চালক পলাতক আছে। ট্রাকের চালককে সনাক্ত করা গেছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে। 

ধারাবাহিক তথ্য সংগ্রহ ও গ্রেফতার অভিযান পরিচালনার একপর্যায়ে অদ্য ০৪/০৭/২০১৯ খ্রিঃ ০৭.০০ ঘটিকায় রাজশাহী জেলার পুঠিয়া বাজার হতে বাস চালক মোঃ ফারুক হোসেন সরকার(৩৯), পিতা-মোঃ আতাহার আলী সরকার, সাং-গোপালহাটি, থানা-পুঠিয়া, জেলা-রাজশাহী’কে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন। ঘটনার সময়ে জব্দকৃত বাসটির চালক তিনি ছিলেন বলে স্বীকার করেন। জব্দকৃত ট্রাকটির সহিত তার বাসের দূর্ঘটনা সংঘটিত হয় বলে ট্রাকটিকেও সনাক্ত করেছেন।